ভেঙে ফেলা হচ্ছে একাধিক পিলার বাঁশখালীতে স্কুলভবন নির্মাণে অনিয়ম, ইটের খোয়া ব্যবহার-amarbanskhali.com - আমার বাঁশখালী ডটকম AmarBanskhali.Com

ব্রেকিং নিউজ

শীর্ষ বিজ্ঞাপন

নিউজ এর উপরে বিজ্ঞাপন

Wednesday, April 4, 2018

ভেঙে ফেলা হচ্ছে একাধিক পিলার বাঁশখালীতে স্কুলভবন নির্মাণে অনিয়ম, ইটের খোয়া ব্যবহার-amarbanskhali.com


ঠিকাদারির কাজে রডের পরিবর্তে বিভিন্ন স্থানে বাঁশ ব্যবহারের প্রচার থাকলেও এবার বাঁশখালীতে স্কুল ভবন নির্মাণকাজে পাথরের খোয়ার পরিবর্তে ইটের খোয়া ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাহারছড়া ইউনিয়নের পূর্ব রতœপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজের ত্রুটি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী অফিস স্কুল ভবনের আরসিসি কলামগুলো (পিলার) ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২ দিনে একটি পিলার ভেঙে ফেলা হয়েছে। ১৫টি আরসিসি পিলারের মধ্যে ৬টিতে ইটের খোয়া ব্যবহারের ঘটনা জানাজানি হলেও প্রকৌশলী অফিস বলছে ৪টিতে ইটের খোয়া ব্যবহার হয়েছে। পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া ব্যবহার নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই কাজের অনিয়ম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকর সচেতন লোকজন।
প্রকৌশল বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা বাহারছড়া পূর্ব রতœপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশ্রয় কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পুনরায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রকৌশলী বিভাগ টেন্ডার আহ্বান করেন। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে পিইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় এ কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের নিচে ৩ কক্ষ ও উপরে ২ কক্ষবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রয়েল এসোসিয়েট ১ কোটি ৫ লক্ষ ২৬ হাজার ৫০৯ টাকায় নি¤œতম দরদাতা হিসাবে ভবনটি নির্মাণের কাজ পায়। একই প্যাকেজে ঠিকাদার পূর্ব সাধনপুর রাজ্জাকীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি ৮৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ৫০৩ টাকা দামে কাজ পায়। এক প্যাকেজের মধ্যে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ৩১ হাজার ৩০৮ টাকা। প্রকৌশল বিভাগ হতে মেসার্স রয়েল এসোসিয়েটকে গত বছর ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ দেন। কাজ শেষ করার সম্ভাব্য তারিখ হিসাবে ২০১৭ সালের ৩০ জুন নির্ধারণ করে দেয়া হয়। ঠিকাদারি কাজের ধীরগতি হওয়ায় এ কাজ তলানিতে থাকলেও অতিরিক্ত সময় ৯ মাস চলছে। কাজটি ঠিকাদারের অধীনে মোহাম্মদ জয়নায় আবেদীন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে পূর্ব রতœপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয় কেন্দ্র কাম স্কুল ভবন নির্মাণে বেজ হতে গ্রেড বিম পর্যন্ত জি. এল টু পি. এল আরসিসি কলামের ১৫টি পিলারের ৫ ফুট উচ্চতার ঢালাই কাজ হয়েছে। এ সমস্ত কাজে স্টিল সাটারের পরিবর্তে কাঠের সার্টার ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাণকাজের স্থলে সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও চোখে পড়েনি। একটি ৫ ফুট উচ্চতার ঢালাই করা পিলার ভাঙার কাজ চলছে। এ কাজে অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের নির্দেশে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া ব্যবহৃত ৪টি পিলার ভাঙা হবে। ভাঙন কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মোসলেম আলী ও শিশু আল আমিন রয়েছে। তারা হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে পিলারগুলো ভাঙ্গন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
শ্রমিক মোসলেম আলী বলেন, ঠিকাদারের নির্দেশে পিলারটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। আরো কয়েকটি পিলার ভাঙা হবে বলে শুনেছি। ভেঙে ফেলার কারণ কি জানতে চাইলে শ্রমিক মোসলেম আলী বলেন, দেখতেছেন না, কি জন্য ভাঙা হচ্ছে। ইটের খোয়া ব্যবহার হওয়াতে ভাঙন চলছে। ৮ মাস ধরে ঠিকাদারের অধীনে কাজ করেন বলে জানান এই শ্রমিক। কিছু দূরবর্তী স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে লোহা ও দেশীয় বালির বিশাল স্তুূপ ও কিছু দূরে সিলেট বালিসহ কিছু পাথর। ধানী জমির পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল এই স্কুল ভবনটি।
বাহারছড়া পূর্ব রতœপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়ার মান বৃদ্ধির জন্য সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে এই স্কুল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনের পিলার তৈরিতে ঠিকাদার অনিয়মের আশ্রয় নেয়ায় পিলার ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। কয়টি পিলার ভাঙবে জানতে চাইলে ওই শিক্ষক বলেন, এ পর্যন্ত একটা ভেঙ্গেছে আরো ভাঙবে।
বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, পূর্ব রতœপুর স্কুল ভবন নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের লোকজন গোপনে পাথরের সাথে ইটের খোয়া মিশ্রণ করে পিলারে ঢালাই কাজ করেছে। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকটি পিলার ভেঙ্গে সত্যতা পেয়েছি। পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া মিশ্রিত ঢালাই করা পিলারগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি প্রতিউত্তরে কোন মন্তব্য করেন নি। তবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান।
চট্টগ্রাম এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান পূর্বকোণকে বলেন, বাহারছড়া ইউনিয়ের পূর্ব রত্মপুর স্কুল ভবন নির্মাণ কাজে এ ধরণের অনিয়ম হওয়ার তো কথা নয়। উপজেলা প্রকৌশলী আমাকে বলেও না, জানায়ও না। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। আমাকে কেউ এ ব্যাপারে অবহিত করেনি। পূর্বকোণ

No comments:

Post a Comment

পোস্টের নীচে বিজ্ঞাপন