আমার বাঁশখালী ডেক্স:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় বর্তমান শুকনো মৌসুমে
বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানির অভাবে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে
প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিবাসীদের জীবন। শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে
যাওয়ায় অধিকাংশ টিউবওয়েলে পানি না উঠায় এ সংকট চরম আকার ধারণ করছে।
পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে পূর্বে বসানো অধিকাংশ টিউবওয়েল। ফলে প্রচণ্ড
গরম ও উষ্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা পিপাসা মিটাতে বাধ্য
হয়ে স্থানীয় জলাশয়ের অনিরাপদ পানি পান করছে। খাল, বিল, পুকুরসহ বিভিন্ন
উন্মুক্ত জলাশয়ের পানি পান করায় স্থানীয় অধিবাসীরা নানা রোগে আক্রান্ত
হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশখালীর অধিকাংশ স্কুলে
বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। বেশ কিছু বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য
নলকূপের ব্যবস্থা থাকলেও অনেকদিনের পুরনো এবং দীর্ঘদিন থেকে অযত্ন-অবহেলায়
পড়ে থাকায় বর্তমানে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে টিউবওয়েলগুলো।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলগামী অবুঝ শিশুরা না বুঝে পান
অনুপযোগী ঠান্ডা পানীয় জল খাচ্ছে। পাশাপাশি স্কুলের আশ-পাশের দোকান থেকে
বিভিন্ন ধরনের জীবাণুযুক্ত আচার ও নিম্নমানের খাবার খাচ্ছে তারা।
বাঁশখালী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ছনুয়া, খুদুকখালী, গন্ডামারা, সরল,
বাহারছড়া, খানখানাবাদ, পুকুরিয়া, কালীপুর, বৈলছড়ি, কাথরিয়া, সাধণপুর,
পুঁইছড়ি, চাম্বল, শেখেরখীল ও শীলকূপ ইউনিয়নের অধিকাংশ স্কুলে বিশুদ্ধ পানীয়
জলের ব্যবস্থা নেই। ছনুয়া খুদুকখালী মধুখালী, দক্ষিণ ছনুয়া, মনু মিয়াজীর
বাজার সাগর উপকূলের কয়েক কিলোমিটার ঘুরেও একটি নলকূপে পানি পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপকূলীয় এলাকায় একটি নলকূপ বসাতে ৯০০-১২০০ ফুট গভীরে
যেতে হয়। গভীরে না গেলে বিশুদ্ধ স্বাদু পানি পাওয়া যায় না। গভীরে নলকূপ
স্থাপন করতে এক/দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এ
প্রতিবেদককে অভিযোগে বলেন, এত টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব না হওয়ায়
আমরা নলকূপের পানির পরিবর্তে খাল-বিল নদী-নালার পানি পান করছি। তারা আরও
অভিযোগ করে বলেন, উপকূলীয় এলাকায় শত শত নলকূপ অকেজো হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায়
থাকলেও দেখার কেউ নেই!
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়,
প্রতিটি স্কুলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে
নলকূপ দেওয়া হলেও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত স্কুলগুলোর নলকূপ
লবণাক্ততার কারণে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া দুর্বৃত্তরা নলকূপের
হেডগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। নতুন করে স্কুল নির্মানের সময় সংশ্লিষ্টরাই
নলকূপ বসিয়ে দেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে নলকূপের বরাদ্দ এলে তা ইউপি
চেয়ারম্যানদের জানিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের দেওয়া নির্দিষ্ট স্থানেই নলকূপ
বসানো হয়।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, অনেকদিন যাবত্ বাঁশখালীবাসীর
চাহিদা অনুসারে কোনো নলকূপ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া যেসব নলকূপ
সরকারি বরাদ্দে পাওয়া যায় তাতেও ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ করে এই শুষ্ক মৌসুমে
পানি পাওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে বাঁশখালীর উপজেলা
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান দেওয়ানজী বলেন, উপকূলীয় উপজেলা
হিসেবে বাঁশখালীতে গভীর নলকূপের বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। গত ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭
অর্থবছরে বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৯৫টি গভীর নলকূপ। তাও স্থানীয় এমপি ও উপজেলা
চেয়ারম্যানের চাহিদা মোতাবেক খুবই পানি সংকটাপন্ন এলাকাগুলোতে বরাদ্দ
দেওয়া হয়েছে। ইত্তেফাক




No comments:
Post a Comment