![]() |
এছাড়া নতুন এ আইনে ডাক্তাররা সরকার নির্ধারিত ফি’র তালিকা চেম্বারের সামনে দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য থাকবেন। আদায় করা ফি বাবদ রোগীকে রসিদ দিতে হবে। রশিদের মুড়ি ডাক্তার নিজ দায়িত্বে সংরক্ষণ করতে বাধ্য থাকবেন। কোনো ডাক্তার স্বীকৃত, অনুমোদিত সার্টিফিকেট কোর্স, ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি ছাড়া কোনো যোগ্যতার বিবরণ সাইনবোর্ড, নামফলক কিংবা ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহার করতে পারবেন না। মুক্তিযোদ্ধা ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে শতকরা ১০ ভাগ শয্যা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
ডাক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসাসংক্রান্ত যে কোনো ধরনের অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করবে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল। ওই সংস্থার তদন্তে কোনো ডাক্তার দোষী হলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। পক্ষান্তরে কোনো ব্যক্তি ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মারা গেলে কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভাংচুর করলে এবং এর ফলে কোনো ডাক্তার কিংবা বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে আক্রমণকারীকে ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হবে। এছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায় করলে ডাক্তারের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
আইনের খসড়া নিয়ে মঙ্গলবার এক বৈঠক শেষে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৯৮২ সালে এ সংক্রান্ত একটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ওই আইন চলে আসছে। তবে যুগের পরিবর্তনের কারণে আইনটি প্রতিপালন হচ্ছে না। তাই নতুন করে একটি আইনের খসড়া তৈরি করে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
আরও পড়ুনঃ চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পেলেন ইয়োশিনরি ওহসুমি
বৈঠক শেষে স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ইকবাল আর্সনাল বলেন, নতুন আইন প্রণয়নের প্রাথমিক কাজ চলছে। ডাক্তরদের ফি এখনও নির্ধারণ হয়নি। তবে আইনটি চূড়ান্ত করা হলে তাতে ডাক্তারের ফি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত অন্যান্য চার্জ উল্লেখ থাকতে পারে। এর বাইরে আর কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠক শেষে স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ইকবাল আর্সনাল বলেন, নতুন আইন প্রণয়নের প্রাথমিক কাজ চলছে। ডাক্তরদের ফি এখনও নির্ধারণ হয়নি। তবে আইনটি চূড়ান্ত করা হলে তাতে ডাক্তারের ফি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত অন্যান্য চার্জ উল্লেখ থাকতে পারে। এর বাইরে আর কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
আইনের খসড়া থেকে জানা যায়, সরকার সময়ে সময়ে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ডাক্তারদের ফি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসংক্রান্ত চার্জ নির্ধারণ করে দেবে। কোনো ডাক্তার সেবাসংক্রান্ত কোনো ধরনের মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র প্রদান করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো অর্থকড়ি নেয়া যাবে না। বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে অথবা ডাক্তারের ব্যক্তিগত চেম্বারে বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করতে হবে। চিকিৎসাসংক্রান্ত সব তথ্য রেজিস্টারে লিখে রাখতে হবে। ওই রেজিস্ট্রার গোপনীয় দলীল হিসেবে গণ্য হবে। রোগীকে রোগের বিবরণ জানাতে হবে। প্রয়োজনীয় ও বিকল্প চিকিৎসা, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং অস্ত্রোপচারের জটিলতা সম্পর্কে রোগীকে অবহিত করতে হবে। এমনকি খাতওয়ারি চিকিৎসা ব্যয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। সন্দেহজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা, বিষ প্রয়োগ, বেআইনি গর্ভপাত, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি, লাঞ্ছিত ও প্রহৃত ক্ষতি, অন্যের দ্বারা যে কোনো ধরনের আঘাতজনিত ক্ষতির ক্ষেত্রে চিকিৎসককে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করতে হবে। ডাক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধগুলোর তদন্ত ও বিচার ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৫নং আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। ডাক্তারের অপরাধের ফলে রোগীর মৃত্যু হলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪৫নং আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে। এছাড়া সরকারি লাইসেন্স ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করলে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
বেসরকারি কোনো চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শন, চিকিৎসাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি, কাগজপত্র পরীক্ষা করতে পারবেন। সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘিত হয়েছে- প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাবে। চিকিৎসক আইন না মানলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিদর্শনকালে যদি প্রমাণ হয় জনস্বার্থেই এ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া দরকার, তাহলে সরকার যে কোনো বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দিতে পারবেন। এমনকি লাইসেন্সও বাতিল করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ১৫ দিনের সময় দিয়ে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। লাইসেন্স বাতিল হলে বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে চিকিৎসারত ব্যক্তিদের ওই প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে অন্য চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করতে বাধ্য থাকবে। এ আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ বাতিল বলে গণ্য হবে।
আরও পড়ুনঃ বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু
এ বিষয়ে আরেকটি আপডেট –
এ বিষয়ে আরেকটি আপডেট –
ডাক্তারদের ফি নির্ধারণে নতুন আইন হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ( 2016-06-08)
চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্রাকটিসের ফি হালনাগাদ করতে সরকার নতুন আইন করতে যাচ্ছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
বুধবার সংসদের প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, বর্তমানে ‘দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২’ অনুযায়ী বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মেডিকেল ফি, কানসালটেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী মন্ত্রীকে বলেন, প্রাইভেট প্র্যাকটিসে অনেক চিকিৎসক ‘খেয়ালখুশি অনুযায়ী অনৈতিকভাবে’ ফি আদায় করছে।
চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্রাকটিসের ফি হালনাগাদ করতে সরকার নতুন আইন করতে যাচ্ছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
বুধবার সংসদের প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, বর্তমানে ‘দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২’ অনুযায়ী বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মেডিকেল ফি, কানসালটেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী মন্ত্রীকে বলেন, প্রাইভেট প্র্যাকটিসে অনেক চিকিৎসক ‘খেয়ালখুশি অনুযায়ী অনৈতিকভাবে’ ফি আদায় করছে।
আইন করে ডাক্তারদের ফি নির্দিষ্ট করতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না তা জানতে চান তিনি।
জবাবে মন্ত্রী জানান, ওই অধ্যাদেশ হালনাগাদ ও যুগোপযোগী করে ‘বেসরকারি চিকিৎসা সেবা আইন-২০১৬’ এর খসড়া শিগগিরই চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
নতুন আইন হলে বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে ‘যুগোপযোগী ও হালনাগাদ ফি’ নির্ধারণ সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
জাসদের এ কে এম রোজাউল করিম তানসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণে এক শিফটের পরিবর্তে দুই শিফটে বহিঃবিভাগ চালু করা হলে অধিক সংখ্যক জনগণ স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।
জাসদের এ কে এম রোজাউল করিম তানসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণে এক শিফটের পরিবর্তে দুই শিফটে বহিঃবিভাগ চালু করা হলে অধিক সংখ্যক জনগণ স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।
“এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বৈকালিক বহিঃবিভাগ চালু করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি হাসপাতাল নির্বাচন করা হয়েছে।” লাইভ ডাক্তার পরামর্শ
আমার বাঁশখালী ডটকম
প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিনিধিরা নিউজ পাঠান
ই-মেইল: amarbanskhali@gmail.com
ভিজিট করুন: www.amarbanskhali.com
প্রধান সম্পাদক শাহ্ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ্ ও প্রকাশক
নিচে আপনার মতামত লিখুন
No comments:
Post a Comment