আনোয়ারার পাঁচ জয়িতার সাফল্য - আমার বাঁশখালী ডটকম AmarBanskhali.Com

ব্রেকিং নিউজ

শীর্ষ বিজ্ঞাপন

নিউজ এর উপরে বিজ্ঞাপন

Friday, June 1, 2018

আনোয়ারার পাঁচ জয়িতার সাফল্য


আমার বাঁশখালী ডটকম:
‘জয়িতার অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় আনোয়ারায় ৫ জয়িতাকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এই পাঁচ নারী হচ্ছেন নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন জীবন শুরু করেছেন শারমিন আকতার (২৮)। শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নন্দিতা চক্রবর্তী। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা রেহানা বেগম চৌধুরী। সফল জননী রোকেয়া বেগম। অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী খালেদা বেগম।
পারিবারিক নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন জীবন শুরু করেছেন আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর বন্দর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস শুক্কুরের মেয়ে শারমিন আকতার। তিনি একটি কন্যা সন্তানকে নিয়ে নিজের জীবনকে সাজাচ্ছেন। ডিগ্রিতে পড়ার সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও মা-বাবার ইচ্ছায় ২০১২ সালে তার বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে একপর্যায়ে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিতে চেয়েছিলেন শারমিন। তার গর্ভের সন্তানের কথা চিন্তা করে আত্মহত্যার পথ থেকে পিছু হঠে আসেন। পরে ২০১৩ সালে তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কন্যা সন্তানের জন্মদানের পরে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন দিন দিন বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে যৌতুকের টাকা দেয়ার জন্য শ্বশুর বাড়ির পক্ষ থেকে তাকে চাপ দেয়া হয়। যৌতুক দিতে না পারায় এক কাপড়েই তাকে বাপের বাড়িতে ফিরে যেতে হয়। এদিকে গোপনে স্বামী অন্য একটা বিয়ে করে তাকে ডিভোর্স দেয়। মা-বাবার বোঝা হওয়া শারমিন পারিবারিক নির্যাতন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য স্বল্প বেতনে একটি নতুন চাকরি নেন। ধীরে ধীরে তার বেতন বাড়তে থাকে। সকল বাঁধাকে কাটিয়ে চাকরির মাধ্যমে নিজেকে স্বাবলম্বী করে কন্যা সন্তানকে নিয়ে সুখের জীবন গড়ে তুলেছেন শারমিন।
শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী নন্দিতা চক্রবর্তী (৫৩) ১৯৮৩ সালে বিএ পাশ করার পর শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে তার বিয়ে হয়। যৌথ পরিবারে বিভিন্ন সদস্যদের মানসিকতার কারণে পদে পদে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। স্বামীর অনুপ্রেরণায় পিছিয়ে পড়া নারীদেরকে নিয়ে একটি শিক্ষিত ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। সমাজে অনগ্রসর নারীদেরকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া তিনি হত দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। ক্লাসে দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও আলাদা পাঠদান করান। বর্তমানে চাকরিতে স্বমহিমায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান নারী রেহেনা বেগম চৌধুরী (৬২) রক্ষণশীল মধ্যবিত্ত পরিবারে মিরসরাই উপজেলার মসজিদিয়া গ্রামে তার জন্ম। ১৯৭৭ সালে আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌস উদ্দিন চৌধুরী’র সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। গ্রাম্য গৃহবধূ থেকে কঠোর পর্দা প্রথার মধ্যদিয়ে তিনি ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি (মাস্টার্স) অর্জন করেন। তার জীবনের লক্ষ্য ছিল নিজে সুশিক্ষিত হয়ে গ্রামীণ নারীদের নির্যাতন রোধ, অধিকার সচেতনতা ও আর্থিক উন্নয়নে সচেতন করে তোলা। সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য প্রবল ইচ্ছা জাগে তার। ২০০৮ সালে তিনি আনোয়ারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম জেলা নারী উন্নয়ন ফোরামে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে এখনো পর্যন্ত নারী উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য।
সফল জননী অর্জনকারী নারী আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের পূর্ব বারখাইন গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসাইনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৫৫)। ২০০৫ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর অসহায় অবস্থায় অতি কষ্টে শ্বশুর-শাশুড়ি ও ১ ছেলে ২ মেয়েকে নিয়ে সংসারের জীবনে নতুনভাবে হাল ধরেন। পারিবারিক আর্থিক অভাব অনটনের মধ্যদিয়ে দিন অতিবাহিত করে। তিনি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য সীমাহীন কষ্ট ভোগ করেন। এরপরেও জীবনের হাল ছাড়েননি। পৈত্রিক জমি বিক্রি করে ঋণ শোধ ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেষ করান। বর্তমানে ১ ছেলে ২ মেয়ে চাকুরিতে যোগদান করে সফলতা ও দক্ষতার সাথে সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত আছেন। প্রথম মেয়ে আইরিন আকতার বিসিএস (ইকোনমিক) সহকারী প্রধান আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, ঢাকা। ছেলে মো. মঈনুল হোসাইন চৌধুরী বিসিএস (প্রশাসন), সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। ২য় মেয়ে নাসরিন সুলতানা এমবিবিএস (৫ম বর্ষ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অধ্যায়নরত।
অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শিলাইগড়া গ্রামের বাসিন্দা আবু সৈয়দের মেয়ে খালেদা বেগম (৩৫)। ২ বছর বয়সে টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। প্রতিবেশীরা তাকে ব্যাঙ্গ করতো। ১৩ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরে সন্তান জন্ম নেয়ার পর মারা গেলে স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। কিছুদিন পর স্বামী আবার ফিরে আসলে তিনি ২য় সন্তানের জন্ম দেন। স্বামী পুনরায় চলে গেলে আর ফিরেনি। ২০০৬ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সংশপ্তক এর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে তার জীবনযুদ্ধ শুরু হয়। নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ, অধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ, দক্ষতার উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ, সেলাই, ব্লক-বাটিক, নঁকশিকাথা, পুতির কাজ, গবাদি পশু-পালন, সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্যসহ বিভিন্ন আয় বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি। পরবর্তী প্রতিবন্ধী বিষয়ক একটি দল তৈরি করেন। এলাকার প্রতিবন্ধীদের নিয়ে গড়ে তুলে ফুটন্ত গোলাপ সংগঠন। ২০১০ সালে জেলা সমাজ সেবক অধিদপ্তর থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। ২০১৪ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় তিনি টেইলারিং ব্যবসা শুরু করেন। তার বর্তমান প্রতিষ্ঠানে ৩ জন কর্মী রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পারিবারিক খরচসহ বিভিন্ন খরচ বহন করে যাচ্ছি। বর্তমানে প্রতিবন্ধী হিসেবে অর্থনৈতিকভাবে তিনি সফল। 
দৈনিক পূর্বকোণ

আমার বাঁশখালী ডটকম
প্রেস বিজ্ঞপ্তি  প্রতিনিধিরা নিউজ পাঠান
-মেইল: amarbanskhali@gmail.com
ভিজিট করুন: www.amarbanskhali.com
প্রধান সম্পাদক শাহ্ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ্  প্রকাশক 
এম.ছৈয়দুল আলম কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ
নিচে আপনার মতামত লিখুন

No comments:

Post a Comment

পোস্টের নীচে বিজ্ঞাপন