আমার বাঁশখালী ডটকম:
টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের স্ত্রী
আয়েশা বেগম বলেছেন, তার স্বামীর হত্যাকাণ্ড পূর্ব-পরিকল্পিত। তিনি গতকাল
বৃহস্পতিবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন এবং
হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন একরামের
স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়ে তাহিয়া ও নাহিয়ান। তারা দুজনই ‘আব্বু আব্বু’ বলে
আহাজারি করছিল। তাদের আহাজারিতে সাংবাদিকরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা ‘জমি কেনার
বিষয়ে আপনার সঙ্গে কথা আছে’ বলে ২৬ মে রাত ৯টার দিকে তার স্বামীকে মোবাইল
ফোনে ডেকে নেন। ফোনে একরামকে হোটেল নেটিংয়ে দেখা করতে বলা হয়েছিল। এই
কর্মকর্তাটি দুই সপ্তাহ ধরে একরামের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন। আয়েশা
বেগম দাবি করেন যে, পরবর্তী ঘটনাগুলো তার মোবাইল কল রেকর্ডে রয়েছে।
তিনি জানান, রাত ১১টা ৩২ মিনিটের পর একরামকে গুলি করা হত্যা করা হয়। রাত
১১টা ৩২ মিনিটে একরামের নম্বরে তার মেয়ে ফোন করলে তা কোনো এক ব্যক্তি
রিসিভ করে। কিন্তু একরাম কথা বলতে পারেননি। অপর প্রান্ত থেকে অপরিচিত এক
কণ্ঠ শোনা যায়, ‘তাহলে তুমি জড়িত নও’। আর একরামের কণ্ঠে শোনা যায় ‘না আমি
জড়িত নই’। এরপরে গুলির আওয়াজ এবং একরামের আর্তচিৎকার শোনা যায়।
কিছুক্ষণ পর কয়েক ব্যক্তির কথাবার্তা শোনা যায়। তাদের একজন বলে ‘এখন
গাড়িতে গুলি কর’। এর আগে রাত ১১টা ১৩ মিনিটে একরামের মোবাইলে ফোন করলে
তিনি মেয়েকে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলেন, ‘মা আমি নীলা যাচ্ছি। আমি যাদের সঙ্গে
এসেছিলাম সেই মেজর সাহেবের সঙ্গে নীলা যাচ্ছি।’
আয়েশা বেগম বলেন, মোবাইলের ভয়েস রেকর্ড যাচাই করলেই প্রমাণিত হবে,
বন্দুকযুদ্ধ নয়। একরামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার
স্বামী কখনো ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত ছিলেন না। তার কোনো অঢেল সম্পত্তি ছিল না।
তার ব্যাংক ব্যালেন্স বা তার সম্পদ অস্বাভাবিক কিছু নেই। প্রতি মাসে
মেয়েদের টিউশন ফি আর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে একরামকে হিমশিম খেতে
হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আয়েশা বেগম বলেন, তার স্বামী সারাটা
জীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ব্যয় করেছেন। নিজের এবং দলের সম্মান নষ্ট হয় এ
রকম কোনো কাজ তিনি কখনো করেননি। এখন অকালে পিতৃহারা দুই কন্যার ভবিষ্যৎ
নিয়ে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন। আয়েশা বেগম বলেন, আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।
চাই সন্তানদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয় ও সুরক্ষা।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মে রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের নোয়াখালী পাড়া
এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফ কায়ুকখালি পাড়ার আবদুস সাত্তারের পুত্র
একরামুল হক (৪৬) নিহত হন। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের ৩ বারের
নির্বাচিত কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক
সভাপতি। কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি
আমার বাঁশখালী ডটকম
প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিনিধিরা নিউজ পাঠান




No comments:
Post a Comment