স্বল্প সময়ে সফল পোর্ট সিটি ভার্সিটি - আমার বাঁশখালী ডটকম AmarBanskhali.Com

ব্রেকিং নিউজ

শীর্ষ বিজ্ঞাপন

নিউজ এর উপরে বিজ্ঞাপন

Tuesday, June 5, 2018

স্বল্প সময়ে সফল পোর্ট সিটি ভার্সিটি


একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গ্রহণযোগ্যতা পেতেই সময় লেগে যায় কয়েক বছর। কিন্তু চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে সে চিত্র ভিন্ন। স্বল্প সময়ের এই বিশ্ববিদ্যালয় সফল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে নিজেকে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। ২০১৩ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে মাত্র পাঁচ বছরেই ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পেয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। মূলত এর পরিবেশ, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং পরিচালনা কমিটির বলিষ্ঠ নেতৃত্বর কারণেই এই সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে আগামীদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগ্য নেতৃত্ব দেয়ার গুণাবলিসমৃদ্ধ নাগরিক গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। আর এই ধ্রুব সত্যকে সামনে রেখেই শিক্ষাক্ষেত্রে উৎকর্ষ অর্জনের ব্রত নিয়ে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে পাঁচ বছর আগে যাত্রা শুরু করে পোর্ট সিটি ইন্টান্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। একদল শিক্ষানুরাগী, রাজনীতিবিদ, সমাজহিতৈষী, ডাক্তার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় কিছু বিষয়ে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পায়। ছয় মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের রূপরেখা প্রণয়নের পর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১৩ সালের ১৭ মে নগরীর দক্ষিণ খুলশীর নিকুঞ্জ হাউজিং সোসাইটির শান্ত ও নির্মল পরিবেশে নিজস্ব ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। ‘এক্সিলেন্স ইন হাইয়ার এডুকেশন’ শ্লোগান নিয়ে একদল অভিজ্ঞ মেধাবী শিক্ষক এবং কর্মকর্তারা তাদের নিরলস শ্রম, মেধা ও শিক্ষাপ্রদানের মাধ্যমে এই বিদ্যাপীঠে তৈরি করছেন জাতির আগামীদিনের কর্ণধার।
বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও সিন্ডিকেট : বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজে রয়েছেন দেশের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ, অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ, সমাজহিতৈষী, খ্যাতনামা ডাক্তার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ব্যক্তিবর্গ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রেসিডেন্ট এবং চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন একেএম এনামূল হক শামীম যিনি একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী। ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জহির আহমদ।
অনুষদ ও বিভাগসমূহ : পোর্ট সিটিতে বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধীনে দশটি বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। এসব বিভাগের মধ্যে আছে জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ, ইংরেজি, ফ্যাশন ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি, বিবিএ, আইন, ইলেকট্রিকাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ন্যাচারাল সায়েন্স। এসব বিভাগে সমন্বয়ক হিসেবে আছেন বিভিন্ন স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ। শিক্ষক হিসেবে আছেন বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, শাবিপ্রবি, ঢাবি, চবিসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা মেধাবী শিক্ষার্থীবৃন্দ। আছেন বিদেশি ডিগ্রিধারী শিক্ষকবৃন্দও।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থী : ২০১৩ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর সময় বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক ছিলেন মাত্র ছয় জন। তবে বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১৭ পূর্ণকালীন শিক্ষক আছেন। আর খ-কালীন শিক্ষক আছেন অর্ধশতাধিক। প্রতি ট্রাইমেস্টারে এখন গড়ে ৬৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছেন। দেশের বাইরেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিবছর আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে আসেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে প্রায় শতাধিক বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন এখানে। এসব শিক্ষার্থীদের দেখভালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে আছেন প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা ও ১২৭ জন কর্মচারী। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিকক্ষে অভিজ্ঞ শিক্ষকম-লীর নিবিড় পরিচর্যায় শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়ার সাহায্যে পাঠদান করা হয়। ৩ টি একাডেমিক ভবনের প্রায় শতাধিক শ্রেণিকক্ষে উচ্চগতির ওয়াইফাই, মাইক্রোফোন এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
লাইব্রেরি ও ল্যাব সুবিধা : তিন জন দক্ষ গ্রন্থাগারিক ও চারজন সহযোগির সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত লাইব্রেরিতে রয়েছে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা, সাহিত্য, সাংবদিকতা, শিল্প, মুক্তিয্দ্ধুসহ নানামাত্রিক বিষয়ের ১০ হাজারেরও অধিক বই, জার্নাল, পত্রপত্রিকা ও সাময়িকী। লাইব্রেরির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ডিজিটাল সংযোজন ই-লাইব্রেরি পোর্টসিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠের জগতে এনেছে ভিন্নমাত্রা। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় বই বিশ্ববিদ্যালয়ের ্ওয়েবসাইটের ই-লাইব্রেরিতে সার্চ করে পড়তে পারে। তাত্ত্বিক পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাপ্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ২ টি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাবসহ বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন ল্যাব স্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭ টি ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব, ২ টি ডিজিটাল ল্যাব, ৭ টি টেক্সটাইল ল্যাব, ১০ টি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব, ১ টি ফিজিক্স ল্যাব, ১ টি কেমিস্ট্রি ল্যাব, ২ টি মিডিয়া ল্যাব, ১টি ইন্টারনেট ল্যাব, ২টি কম্পিউটার প্রাকটিস ল্যাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জন্য রয়েছে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সুবিধা। চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে রয়েছে দুই জন পূর্ণকালীন চিকিৎসক।
শিক্ষকদের দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ : শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য রয়েছে সেন্টার ফর ট্রেনিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (সিটিডি)। এটি নতুন শিক্ষকদেরকে পাঠদানের কলাকৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
সমঝোতা স্মারক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ প্রাপ্তি : পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইতোমধ্যে কানাডার নোবেল ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েক খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়ের সমঝোতা স্মারক সম্পাদন করেছে। এছাড়া দেশের মিলিটারি ইনস্টিটিউট এমআইএসটি’র সাথেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া গুণগত শিক্ষাপ্রদানে এই বিশ্ববিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি অব বিজনেসের লাইফটাইম মেম্বারশিপ অর্জন করেছে।
সহশিক্ষা ও বিভিন্ন ফোরাম : পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে মানবিক ও সামাজিক গুণাবলির সমন্বয়ে যোগ্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ভার্সিটি সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ফোরাম বিভিন্ন জাতীয় দিবসে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বিনোদন ও খেলাধূলার জন্য রয়েছে পৃথক কমনরুম, ইনডোর গেমস্ ফ্লোর, ক্যাফেটেরিয়া। রয়েছে কনফারেন্স কক্ষ, অডিটোরিয়াম, প্রার্থনা কক্ষ এবং ছাত্র-ছাত্রীর পৃথক কমনরুম। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় কালচারাল ফোরাম, বিজনেস ফোরাম, ডিবেট ফোরাম, আইটি ফোরাম, স্যোশাল এওয়ারনেস ফোরাম, স্পোর্টস ফোরাম ইত্যাদি।

No comments:

Post a Comment

পোস্টের নীচে বিজ্ঞাপন