আমার বাঁশখালী.কম ডেক্স রিপোর্টার মোঃ রোমান চৌধুরীঃ
বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের কোন খবর যেন এদের
কাছে নেই। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে কালোতেলে তৈরি হচ্ছে ইফতারি পণ্য
আলকরণ লেন, সোহরাওয়ার্দী সড়ক, শেঠপাড়াসহ অন্যান্য স্থানে। রাস্তার ধারে,
ফুটপাতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব ইফতারি।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তা, ফুটপাতে, হোটেল রেস্তোরাঁর সামনে বসেছে
ইফতারির দোকান। চোখে না দেখলে ধারণা করা যাবে না যে কেমন পরিবেশে তৈরি
হচ্ছে ইফতারি। রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে ধুলোবালির মধ্যে দীর্ঘ সময়
ধরে বারে বারে ইফতারি পণ্য ভাজার কারণে কালো হয়ে যায় কড়াইয়ের তেল। সেখানে
আরও কিছু তেল ঢেলে দিয়ে আবারও ভাজা হয় হরেক রকম ইফতারি। আর ক্রেতারা কোন
রকম বাছ-বিচার না করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন সেসব। অবাধে বিক্রি হচ্ছে ছোলা,
পবগুনি, আলুর চপ, সবজি চপ, ঘুঘনি, পেঁয়াজু, মিষ্টি সিঙ্গারা, ঝাল সিঙ্গারা,
সমুচা, চিড়া ভাজা, চিড়া-দই, ডিমের চপ। বিভিন্ন আইটেমে ব্যবহৃত হচ্ছে
টেক্সটাইল কালার। কম খরচে বেশি লাভের জন্য কাপড়ে ব্যবহারের রং ব্যবহার করা
হচ্ছে ইফতার সামগ্রীতে। এক কেজি টেক্সটাইল কালারের মূল্য তিনশ টাকা। আর
খাদ্যসামগ্রীতে ব্যবহার্য কালারের কেজি প্রায় ১০ হাজার টাকা। তাই এর
পরিবর্তে কাপড়ের রং ব্যবহার করা হয়। রাস্তার ধারে, ফুটপাতের এসব ইফতার
সামগ্রীর ক্রেতা নিম্ন আয়ের মানুষ এবং পথচারীরা। অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা
কিনেন ফুটপাতের ভেজাল ইফতার। কেবল ফুটপাতে তৈরি ইফতারি পণ্য নয়, ঐসব এলাকার
বেশ কিছু দোকানেরও কমবেশি একই অবস্থা। এমন কি বছর দু’য়েক পূর্বে যে
দোকানটি ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা দিয়েছিল সেটি দেখে মনে হযেছে যেন সবকিছু
বেমালুম ভুলে গেছে। সেই দোকানটিসহ আরও কয়েকটির একেবারে নোংরা পরিবেশ।
ক্রেতাদের সেদিকে যেন কোন প্রদক্ষেপ নেই।
এদের একজন আলকরণ গলির মাহমুদ আলী বললেন, ‘বাসায় ইফতারি তৈরি হয়, কিন্তু সব
আইটেম তো হয় না। তাই বাইরে থেকে নিয়ে যাই।’ তবে দোকানের ভিতরের অবস্থা কেমন
অর্থাৎ কেমন তেলে বা কেমন পরিবেশে ইফতারি তৈরি হয় তা কখনও খেয়াল করে
দেখেননি বলে জানালেন তিনি।





No comments:
Post a Comment