![]() |
আমার বাঁশখালী ডেস্ক:
বাঁশখালীতে প্রথমবারের মতো যোগদান করেছেন একজন নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তাঁর নাম মোমেনা আক্তার। ১০ জুলাই কর্মস্থলে যোগদান করার পর থেকে তিনি বাঁশখালীর আনাচে-কানাচে ঘুরে দেখছেন। সাহসিকতা আর বিচক্ষণতার পরিচয় দিচ্ছেন নানা কাজে। দুর্গম ও প্রতিকূল এলাকাগুলোও পরিদর্শনে যাচ্ছেন। মানুষের ভালো-মন্দের খবরাখবর নিচ্ছেন।
বাঁশখালীর একদিকে সবুজে ঢাকা সুবিশাল পাহাড়, অপরদিকে সুবিশাল সমুদ্র আর মাঝখানে সমতল ভূমি। এর মাঝখানে ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ জলকদর খাল। সবকিছুর সংযোজনে নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাঁশখালীকে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সূতিকাগার হিসেবে রূপ দিতে চান।
![]() |
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ‘বিপুল সম্ভাবনার বাঁশখালী পিছিয়ে আছে শিক্ষায়। মাত্র ৩৬ শতাংশ শিক্ষার হার। এটা দুর্ভাগ্যজনক। জাতিকে গর্বিত জাতি হিসেবে পরিচিত করার প্রথম হাতিয়ার শিক্ষা। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রতিটি ভিশন ও মিশনে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আদর্শকে লালন-পালন করতে আমার টার্গেট হচ্ছে নিরক্ষরমুক্ত বাঁশখালী উপহার দেওয়া। বাঁশখালীতে শিক্ষাকে নিরক্ষরমুক্ত করতে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের দৃষ্টান্তমূলক পরামর্শ ও প্রস্তাব কামনা করছি।’
শিক্ষার পাশাপাশি তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি মাদকের ব্যাপারে বলেন, ‘অশিক্ষা যেমন জাতিকে ধ্বংস করে, তেমনি মাদক সমাজকে ধ্বংস করে। মাদকাসক্তদের ছোবল সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে।’
‘সৃজনশীল সমাজ ও জনগোষ্ঠী সৃষ্টি করতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে মাদককে না বলতে হবে। নিরক্ষর ও মাদকমুক্ত ঐক্যবদ্ধ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশকে পৃথিবীর উচ্চ আসনে বসাতে পারবে। এ দুটি বিষয়ে আমরা সচেতন হয়ে ওঠলে সমাজে পচন ধরা কর্মকাণ্ড যেমন বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাস, প্রশ্নপত্র ফাঁস, দস্যুতাসহ সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিটি কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে। শিগগিরই আমরা হয়ে ওঠব উন্নত মন মানসিকতার
নাগরিক।’-যোগ করেন ইউএনও মোমেনা আক্তার।
কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করা মোমেনা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স করে ৩০তম ব্যাচের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন।
২০১২ সালের জুন মাসে সহকারী কমিশনার হিসেবে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসনে ছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত পৃথক পৃথক সময়ে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা ও ফরিদগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ২০১৭ সালের শেষ দিকে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ওই পদ থেকে গত ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নিযুক্ত হন। ৯ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদানের পর দিন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। সূত্র: কালেলকণ্ঠ অনলাইন।






No comments:
Post a Comment