নতুন চলচ্চিত্র নগরীতে ফিরবে সুদিন! - আমার বাঁশখালী ডটকম AmarBanskhali.Com

ব্রেকিং নিউজ

শীর্ষ বিজ্ঞাপন

321

নিউজ এর উপরে বিজ্ঞাপন

Monday, July 30, 2018

demo-image

নতুন চলচ্চিত্র নগরীতে ফিরবে সুদিন!


.com/blogger_img_proxy/
আমার বাঁশখালী ডেস্ক:
খবরটা এ রকম, রাজধানীর কাছেই সুবিশাল এক চলচ্চিত্র নগরী গড়ে তোলা হচ্ছে, এবং এ নগরীর কাজ শেষ হলে শুয়ে পড়া বাংলা চলচ্চিত্র নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে, আর এ আশাবাদ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি)। এ করপোরেশন সারা দেশে একই সঙ্গে ৫০টি সিনেমা হল সংস্কারের ব্যবস্থাও নিয়েছে। আর সবই মৃতপ্রায় বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে প্রাণ সঞ্চারের মেগা উদ্যোগ।
নির্মিত চলচ্চিত্র নগরীর নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। ১০৫ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে বঙ্গবন্ধু চলচ্চিত্র নগরী। ‘একে একটি আন্তর্জাতিক নগরীতে পরিণত করার ইচ্ছা আমাদের’— বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হোসেন জানাচ্ছেন। প্রথম ধাপের কাজ প্রায় শেষের দিকে, শিগগিরই চলচ্চিত্র নির্মাতারা এ কাঠামো দেখার সুযোগ পাবেন।
‘আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা খরচ করেছি। এটা একটা মেগা প্রজেক্ট, আগামী কয়েক বছরে কয়েক ধাপে ৫৮১ কোটি থেকে ৬৬৪ কোটি টাকা খরচ করা হবে’— জানিয়েছেন আমির হোসেন, বিদেশী এক সংবাদ মাধ্যমকে।
‘৫০টি সিনেমা হল সংস্কারে খরচ হবে প্রায় ৫০ কোটি টাকা, আর একই পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশে আরো নতুন নতুন সিনেমা হল নির্মিত হবে’— যোগ করেন বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আধুনিক সরঞ্জামের সুবিধা দিতে এরই মধ্যে ৫০ কোটি টাকা খরচ করে নতুন যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, চলচ্চিত্র নির্মাণে এখন তার ব্যবহারও হচ্ছে।
নতুন এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার নেপথ্যে রয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের ক্রমবর্ধমান অধঃগতি। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের হলগুলোয় ভারতীয় সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়া হয়। এ পরিকল্পনার পেছনে তখন কাজ করেছিল স্থানীয় চলচ্চিত্রকে সুরক্ষা দেয়া, কিন্তু তা কোনো কাজে দেয়নি। দেশী চলচ্চিত্রে মানসম্পন্ন ছবি তৈরি করতে না পারার সীমাবদ্ধতা আর ভারতীয় ছবি অবাধে ভিসিআর ও ভিসিডি ও সিডিতে সহজলভ্য হয়ে পড়ায়,  দর্শকরা হলবিমুখ হয়ে পড়ে। বাংলা চলচ্চিত্রের আরো কঠিন অবস্থা তৈরি হয়, যখন অশ্লীল ছবি নির্মাণের দিকে ঝুঁকে পড়েন কিছু নির্মাতা, আর তাদের মুনাফালোভী দৌরাত্ম্যে সুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাতারা একে একে চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে সরে যেতে থাকেন। ফলে মধ্যবিত্ত দর্শক পুরোই হলবিমুখ হয়ে পড়ে। এক যুগ আগেও বাংলাদেশে বছরে শতাধিক ছবি নির্মাণ হতো, এখন তা অর্ধশতকের নিচে নেমে এসেছে। মাঝখানে দেশী চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচাতে ভারতীয় ছবি প্রদর্শনের একটা উদ্যোগ নেয়া হলেও দেশীয় নির্মাতা-কলাকুশলীদের আন্দোলনের মুখে সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়। এখন ছবি বিনিময় চুক্তির আওতায় ভারতীয় কিছু ছবি বাংলাদেশে প্রদর্শিত হয়। কিন্তু সব ব্যর্থতার পর সার্বিকভাবেই চলচ্চিত্র থেকে সাধারণ দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ২০১১ সালেই বিবিসির কাছে মধুমিতা হলের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার নওশাদ আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা হলে প্রদর্শনের জন্য পর্যাপ্ত ছবি পাচ্ছি না। ফলে অনেক সিনেমা লোকসান গুনছে, হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ হলকে শপিংমলে রূপান্তর করছেন।’
তার কথা যত দিন গেছে, ততই সত্যি হয়েছে। একসময় দেশে দেড় হাজারের মতো সিনেমা হল ছিল। এখন হলের সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে কয়েক শয়ে। রাজধানী ঢাকাতেই নিউমার্কেট অঞ্চলে ছিল বেশ কয়েকটি হল। মল্লিকা সিনেমা হল বন্ধ হয়ে বিরাট শপিংমল মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। মধুমিতা জৌলুসহীন। পুরান ঢাকায় চালু নেই প্রায় কোনো হলই। আরো সাত-আট বছর আগে রাজমণি হলের মালিক আহসানউল্লাহ মনিও একই কথা বলেছিলেন, ‘সিনেমা নেই। আমাদের সামর্থ্যের এক-চুতর্থাংশই অব্যবহূত রয়ে যাচ্ছে। প্রচুর লোকসান গুনছি।’
এ লোকসান থেকে বাঁচতেই তখন অনেক পরিবেশক-হলমালিক ভারতীয় ছবির অবাধ প্রদর্শনীর দাবি তুলেছিলেন। তাদের তখনকার যুক্তি ছিল— স্যাটেলাইট চ্যানেলে, ডিভিডিতে সবাই ভারতীয় ছবি দেখছে, তাহলে হলে দেখালে সমস্যা কী!
দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা-কলাকুশলী একাট্টা হয়ে এ উদ্যোগ রহিত করা হয়। তখন আশা ছিল ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে দেশেই প্রচুর ছবি নির্মাণ সম্ভব। পুরনো, প্রথিতযশা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে তারেক মাসুদ, নুরুল আলম আতিক, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী— এ রকম নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নাম যুক্ত হওয়ায় নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এক দশকেই সেই আশাবাদ ফিকে হয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রকাররা বাণিজ্যিক ছবির পরিবর্তে ছবি তৈরি করছেন এখন শুধু দেশের বাইরের বিভিন্ন উৎসবের জন্য।
ফলে নতুন প্রযুক্তির আমদানি হয়েছে, চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রচুর নতুন প্রাণশক্তি যোগ হয়েছে ঠিকই কিন্তু সিনেমা থেকে আয়ের নিম্নগতি রোধ হয়নি, কাজেই হল বন্ধ হয়ে যাওয়া অব্যাহতই আছে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী শোয়েব রশিদ জানান, পারিবারিকভাবেই এক সময় তারা সারা দেশে ২২টি সিনেমা হল চালাতেন। পাঁচ বছর আগেও এ সংখ্যা বেশ ছিল। তবে এখন তারা চালু রেখেছেন মাত্র পাঁচটি হল। শোয়েব রশিদ আরো যোগ করেন, ‘পাঁচ বছর আগে দেশে ৫৫০টির মতো সিনেমা হল চালু ছিল, আর এখন চালু আছে মাত্র ৩১৫টি হল।’
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির প্রধান মুশফিকুর রহমান গুলজার মনে করেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বড় ক্ষতি করছে কপিরাইট পাইরেসি। নকল ছবি। একজন প্রযোজক ছবিতে টাকা লগ্নি করে সেই টাকা ফেরত না পেলে নতুন ছবির পেছনে তিনি আর লগ্নি করবেন না, এটাই স্বাভাবিক। গুলজার আরো মনে করেন, ‘ছবি পাইরেসি ঠেকাতে পারলে চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচানো সম্ভব, সঙ্গে প্রযোজকের লগ্নির সুরক্ষা দিতে হলগুলোয় ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।’
চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মিশা সওদাগর আরো একটি সমস্যা শনাক্ত করেছেন, তিনি মনে করেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রাণ সঞ্চার করতে নতুন প্রতিভার আবির্ভাব জরুরি। পুরনো মুখ দেখতে দেখতে দর্শক বিরক্ত হয়ে গেছে। মাত্র গুটিকয় তারকানির্ভর চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি কোথাও পৌঁছাতে পারে না। তিনি আরো মনে করেন, দর্শকরা প্রতিদিন হলিউডের বিশাল বাজেটের সব ছবি দেখছে, বলিউডেরও; কাজেই বাইরের ছবির সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে দেশী ছবির বাজেটও বাড়াতে হবে।
যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মাণেও অনেকে চলচ্চিত্র শিল্পের বেগবান হওয়ার পথ দেখছিলেন। আবার কোনো কোনো সমালোচক মনে করেছিলেন, বলিউডের ছবি আমদানিতেই কেবল বাংলাদেশের এ ঝিমানো চলচ্চিত্র জগৎ যদি জেগে ওঠে। তারা মনে করেছেন, একমাত্র কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়লেই কেবল যদি ঢাকার চলচ্চিত্রের মানের উন্নতি হয়। তাদের যুক্তি দুর্বল চিত্রনাট্য, অপেশাদারি নির্মাণ কৌশল বাংলাদেশের দর্শকদের হল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে— বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে এ যুক্তিতক্কো নতুন নয়। বিদেশী ছবি প্রদর্শনীর আলোচনায়, যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণের বিতর্কে— এ কথাগুলো বারবার ঘুরেফিরেই আসছে, কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প এখনো সেই বেপথু কিংবা পথহারা। এখন ভালো ছবির নামে যেসব ছবি হচ্ছে, তা হলগুলো প্রদর্শনীতে আগ্রহী হয় না। গত এক বছরে বেশকিছু ছবির ভাগ্যে এক-দুটির বেশি হল জোটেনি। আবার কেউ কেউ বলছেন বাংলা ছবি একটি শপিংমলের সিনে কমপ্লেক্সে আটকে গেছে। তবে শোনা যায় এ মন্দার বাজারেও ‘ঢাকা অ্যাটাক’ নামের একটি ছবি আশানুরূপ ব্যবসা করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু বছরজুড়ে তুমুল আলোচনা আর বিতর্ক জন্ম দেয়া মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ডুব’ ব্যবসা সফল হয়নি।
বাংলা চলচ্চিত্রের এ কঠিন অবস্থা থেকে সহসাই মুক্তি সম্ভব হবে না, এটা এখন নিশ্চিত করেই বলা যায়। যত দিন যাচ্ছে, গোটা বিশ্বের চলচ্চিত্র শিল্পই, সে নির্মাণে কি বিপণনে বিশাল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন অন্তর্জালের কল্যাণেই সহজে বিশ্বের বিখ্যাত সব ছবি প্রায় বিনামূল্যে উপভোগ করা সম্ভব হচ্ছে, এমনকি বড় পর্দার বিকল্প প্লাটফর্মও দাঁড়িয়ে গেছে— নেটফ্লিক্স। বড় নির্মাতারা এ নেটভিত্তিক স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে ঝুঁকছেন। বিশ্বখ্যাত স্প্যানিশ চলচ্চিত্রকার আলমোদোবার থেকে অস্কারজয়ী রদ্রিগেজও নেটফ্লিক্সের কাছে সানন্দে ছবি তুলে দিচ্ছেন। কাজেই এত এত চ্যালেঞ্জ: ইন্টারনেট, মোবাইল, নেটফ্লিক্সের মোকবেলায় আমরা আমাদের দুর্বল নির্মাণ কৌশল, নকল চিত্রনাট্য আর অপ্রতুল আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে কীভাবে লড়াই করব! চলচ্চিত্র নগরী, আধুনিক প্রযুক্তির আমদানির পাশাপাশি গুটিকয় জীর্ণ সিনেমা হল সক্রিয় হয়ে ওঠা আর মৃত এবং ভীষণ রকম পশ্চাদপদ চলচ্চিত্র শিল্পকে আদৌ কি বাঁচানো সম্ভব? কোনো নিদান বটিকাই কি আসলে কাজে দেবে? এর উত্তর বোধহয় কেবল সময়ই জানে, তার আগ পর্যন্ত আমরা নতুন নতুন এ বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়ন গাথা শুনব, নতুন প্রতিভার আগমন ধ্বনি শুনব আর শুধু স্বপ্ন বুনে যাব।
সূত্র: বিবিসি, আরব নিউজ, ফিল্ম আর্কাইভ

No comments:

Post a Comment

পোস্টের নীচে বিজ্ঞাপন

Pages

Contact Form

Name

Email *

Message *